স্বাধীনতাযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ইন্দিরা গান্ধী     শিশু মৃত্যুর হার ৬৩ শতাংশ কমিয়েছে বাংলাদেশ     একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়ী কনজারভেটিভ পার্টি     নিপাহ রোগ (নিপাহ ভাইরাস) আতংক নয়, দরকার সতর্কতা ও সচেতনতা     শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যানবাহন চলাচলে নির্দেশনা     ব্রিটেন নির্বাচন: তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত রুপা হক     অমিত চাকমা এবার অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রেসিডেন্ট!     টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক    

সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

  আগস্ট ১৫, ২০১৯     ৪৭     ৯:৩১ পূর্বাহ্ন     বিনোদন
--

উত্তরণবার্তা বিনোদন ডেস্ক : কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলা কাব্য, নাটক ও প্রবন্ধ সাহিত্যে অসাধারণ প্রতিভাধর এই কবি স্বল্প সময়ে লেখালেখি করেও বিপুল মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং খ্যাতি লাভ করেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার কবিতায় বলেছেন- ‘শাবাশ বাংলাদেশ/ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার / তবু মাথা নোয়াবার নয়’। আরেক কবিতায় বলেন- ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। কাব্য সাহিত্যে এমনই সব অমর কাব্যগাথা রচনা করে তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ততকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) কোটালীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম সুনীতি দেবী এবং পিতা নিবারণ চন্দ্র ভট্টাচার্য। ছোটোবেলা থেকে সুকান্ত ভট্টাচার্য কলকাতায় বসবাস করেন। ১৯৪৫ সালে বেলেবিটা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হন। এ সময়ে তিনি বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কবির শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। ছোটোবেলায় মাকে হারান। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কিশোর কবি এর ফলে বেছে নেন রাজনীতি ও লেখালিখির জীবন। তার বন্ধু কবি অরুণাচল বসুর মা সরলা বসু কবিকে পুত্রস্নেহে লালন-পালন করেন।

স্কুলজীবনে মাত্র নয় বছর বয়সে সুকান্তের প্রথম লেখা একটি গল্প হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়’তে প্রকাশ পায়। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে লিখেন নাটক ‘ধ্রুব’। এই নাটকে তিনি অভিনয় করেন। সেই থেকে কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন। সাংবাদিকতায় অসাধারণ মেধার পরিচয় রাখেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন ১৯৪৪ সালে। পরে দলটির মুখপত্র ‘দৈনিক স্বাধীন’ সম্পাদনা কাজে যোগ দেন। ১৯৪১ সালে যোগ দেন কলকাতা রেডিওতে।

কবি সুকান্ত মাত্র সাত-আট বছর লেখালিখি করে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। প্রগতিশীল মানসে দীক্ষিত এ কবি বাংলা সাহিত্যে মার্কসবাদী ভাবধারা ও বৃটিশ শোষণ-বিরোধী এবং সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখালিখি করেন। তিনি সাহিত্যচর্চায় স্বল্প সময়ে নানা বিষয়ে লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। কবি সুকান্তের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ছাড়পত্র, কবিতাসমগ্র, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, রাখাল, গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

ম্যালেরিয়া ও শ্বাসরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। এই হাসপাতালেই মাত্র ২১ বছর বয়সে কবি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মারা যান।

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর