আওয়ামী লীগ সম্পাদকমন্ডলীর সভা আগামীকাল     নওগাঁয় গত অর্থ বছরে ৪৬০ কোটি ৪৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ     নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান হ্রাসের আহ্বান জানালেন মোমেন     প্রশিক্ষণ সফর শেষে নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ সমুদ্র অভিযানের ভারতের বিশাখাপত্তম বন্দর ত্যাগ     একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন     ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক     ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল বন্ধ     প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, ৪৭ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে    

ঘূর্ণি পিচই বুমেরাং বাংলাদেশের

  সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯     ৭৯     ১৮:৫১     ক্রীড়া
--

উত্তরণ ক্রীড়া ডেস্ক : ঘূর্ণি পিচ তৈরি করে তাতেই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের কবর যেন নিজেরাই খুঁড়ে রেখেছিলেন তাঁরা। আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়। বাংলাদেশের মাটিতে ২২৪ রানে জয় তুলে নিল রশিদ খানের আফগান-বাহিনী। ম্যাচে ১১ উইকেট এবং ৭৫ রান করে একাই পার্থক্য গড়ে দিলেন আফগান স্পিনার।

চট্টগ্রামের বৃষ্টি অনেক চেষ্টা করেছে। টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের বেশ বড় একটা অংশ বৃষ্টির দখলে গেছে। তবু বাংলাদেশের অলআউট হওয়া আটকায়নি। শেষ দিনে মাত্র ১৭.২ ওভারেই বাংলাদেশের ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে ২২৪ রানের জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। ওতেই প্রতিপক্ষের মাটিতে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই প্রথম জয় পেয়ে গেল। এ কীর্তি অবশ্য অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানেরও আছে। সে তুলনায় তাদের অন্য কীর্তিটা আরেকটু বেশি কৃতিত্বের। টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ে দলটি ভাগ বসিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ১৪০ বছর পুরোনো এক রেকর্ডেও।

টেস্টের প্রথম দিনেই চমক। টসের পর টিম লিস্ট দেখে চমকে উঠল ক্রিকেট মহল। দু’টি দল মিলিয়ে এক জন পেসার! তিনি আফগান মিডিয়াম পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই। এই দল ঘোষণাই বুঝিয়ে দিচ্ছিল প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরবে পিচে। হলও তাই। বাংলাদেশের হয়ে নতুন বল হাতে তুলে নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। একে একে শাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসানরা বল করতে এলেন সাফল্য পেলেন। কিন্তু ড্রেসিংরুমে বসে তখন মুচকি হাসছেন আফগান অধিনায়ক।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের কালঘাম ছুটিয়ে দেন রহমত শাহ। জীবনের প্রথম টেস্ট শতরান পেয়ে যান তিনি। নাম লেখান ইতিহাসেও। আফগানিস্তানের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হলেন তিনি। তাঁর সঙ্গ দেন আসগার আফগান। ৯২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি।দ্বিতীয় ইনিংসেও করেন ৫০ রান। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৫১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ করেন রাশিদ। বল করতে নেমে বাংলাদেশকে ২০৫ রানে অলআউট করে দেন আফগানরা। মূল কাণ্ডারি আবার সেই রশিদ খান। ঘূর্ণি পিচ ব্যুমেরাং হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য। মমিনুল হক ছাড়া কোনও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান অর্ধশতরানের গণ্ডি টপকাতে পারেননি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইব্রাহিম জাদরানরা নিজেদের লিডকে নিয়ে যান ৩৯৮ রানে। এই বিশাল রান টপকে জয় পাওয়া যে বেশ কঠিন হবে শাকিবদের জন্য, তা বোঝাই যাচ্ছিল। চতুর্থ দিনের খেলায় আবার রাশিদের স্পিনের জাদুতে পথ হারিয়ে ফিরতে শুরু করেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। একা প্রতিরোধ গড়েন সাকিব। আর  শেষে চেষ্টা করেছেন সৌম্য। আবার ডুবিয়েছেনও তিনিই। হার যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই তাদের রক্ষাকর্তা হয়ে এসেছিল বৃষ্টি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রশিদের ভেল্কিতে মাত্র ১৮ ওভারেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। স্রেফ ২.৪ ওভার পার করলেই ম্যাচটি ড্র হতে পারত। কিন্তু পারল না বাংলাদেশ।

হারের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল বৃষ্টির আশীর্বাদে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। খেলা শুরু হতেই ফিরলেন সাকিব। বাকি তিন ব্যাটসম্যানকে ফেরান রশিদ। প্রথম টেস্ট জয়ের ম্যাচের সেরাও তিনি। নিজেদের প্রথম টেস্টে জয়ের রেকর্ড শুধু অস্ট্রেলিয়ার আছে। পরের ম্যাচেই তাদের হারিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের প্রথম জয় বুঝে নিয়েছিল। দুই বছর পর (১৮৭৯ সালে) আরেকটি সফরে এসে একটি টেস্ট খেলেছিল ইংল্যান্ড। সেটাতেও জয় বুঝে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে নিজেদের প্রথম তিন টেস্টেই দুই জয়ের স্বাদ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের বছর নিজেদের মাঠের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই নিজেদের দ্বিতীয় জয় পায় ইংল্যান্ড। সেটি ছিল তাদের চতুর্থ ম্যাচ। টেস্টে দ্বিতীয় জয় পাওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়ানদের ধারে কাছে এত দিন শুধু ইংল্যান্ডই ছিল। আজ ইংল্যান্ডকে টপকে অস্ট্রেলিয়ার পাশে বসল আফগানিস্তান।

দ্বিতীয় জয় পেতে এদের কাছাকাছি আছে পাকিস্তান। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই জয় পাওয়া পাকিস্তানের পরের জয়টি নবম ম্যাচে। এ কাজে তাদের পরেই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ১২ ম্যাচ খেলেই দ্বিতীয় জয় পেয়েছে উইন্ডিজরা। তাদের আগে টেস্ট খেলা শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার লেগেছে এক ম্যাচ বেশি। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় জয় এসেছে তাদের ২০তম ম্যাচে। সে তুলনায় ভারতের অপেক্ষাটা বেশ দীর্ঘ। ৩০তম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয় পেয়েছে ভারত। টেস্ট খেলায় ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ভারতের চেয়ে মাত্র এক ম্যাচ বেশি খেলেই দ্বিতীয় জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম জয় পেতে ২৬ বছর অপেক্ষায় থাকা নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়ের অপেক্ষাও কম নয়। ৫৫তম ম্যাচে এসে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে কিউইরা।

এতক্ষণ পড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটি তথ্য দিয়ে শেষ করা যাক। যে বাংলাদেশকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ছুঁল আফগানিস্তান, সে বাংলাদেশ কততম ম্যাচে এসে দ্বিতীয় জয় পেয়েছিল? উত্তর হলো ৬০। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রায় দ্বিতীয় দলকে হারিয়ে অবশেষে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ।

উত্তরণবার্তা/আসো

 



এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে

  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ভালো ইলিশ চেনার উপায়

  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন

  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯     ১৫২

১৩ জনের চেষ্টায় বদলে গেল দুটি গ্রাম

  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯     ১৬

বিমানের চেয়েও দ্রুতগতিতে ছুটবে ট্রেন

  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯     ১৫

পুরনো খবর