পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে : বরিস জনসন     নিউজিল্যান্ডে করোনায় প্রথম মৃত্যু     ঢাকার পথে মেডিক্যাল সরঞ্জামবাহী চীনা বিমান     বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৮৮০, আক্রান্ত ৬৬৩৭৪০     টিভিতে শুরু হলো ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস     সরকারের অবহেলায় সংক্রমণ শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র     করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে একই পরিবারের ৫ জন হাসপাতালে     ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা জরুরি    

প্রাণের বিকেএসপিতে তারকাদের মেলা

  মার্চ ১৫, ২০২০     ৩০     ১৩:০৪     ক্রীড়া
--

উত্তরণবার্তা ক্রীড়া ডেস্ক : 'বন্ধু মানে সকাল বেলা, বন্ধু মানে সাঁঝ। বন্ধু মানে মনের কথা, বলতে কিসের লাজ।' প্রাণপ্রিয় বন্ধুদের কাছে মনের জানালা খুলে দিতেই তো গতকাল বিকেএসপির সেই সবুজ চত্বরে মিলিত হলেন মুশফিক, বাকি, শারমিন, রনিরা। তারার মিলনে বসেছিল মেলা। সমোচ্ছ্বাসে তারকারা যেন গাইলেন 'মুছে যাওয়া দিনগুলো আমায় যে পিছু ডাকে'।

তাতে ছিল না কোনো বেদনার সুর; ছিল আবেগ, উচ্ছ্বাস, স্মৃতি রোমন্থন ও স্মৃতি কাতরতা। হারানো দিনকে ফিরে পাওয়ার রোমাঞ্চে বাঁধনহারা হলেন বিকেএসপির ২০০০ সালের ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা। যেন প্রাণের ডাকে প্রাণের সাড়া সারা বেলা।

'বন্ধু মানে ফাঁকা মাঠ, একটু খানি হওয়া। বন্ধু মানে এই জীবনে অনেক খানি পাওয়া।' বিকেএসপির খোলা হাওয়ায় উন্মাদ হলেন তারা। কাকে রেখে কার সঙ্গে কথা বলবেন, এই নিয়ে নিজের সঙ্গে নিজেরই এক প্রতিযোগিতা হলো যেন সারাক্ষণ তাদের মনে। তাই তো একজন বললেন, তুই কেমন আছিস? পরক্ষণে অন্য একজন বলছে- তোরা কেমন আছিস? ভালো তো? কী করছিস এখন? হাজারো প্রশ্নে বন্ধুতে বন্ধুতে কুশল জানতে চাওয়ার অবারিত সুযোগ লুফে নিলেন আব্দুল্লাহ হেল বাকিরা।

দেশের ক্রিকেটের আইকন মুশফিকুর রহিম যেমন বললেন, 'এ ভীষণ আনন্দের। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। সেই ২০০৬ সালে বিকেএসপি ছাড়ার পর সবার একসঙ্গে হওয়া এই প্রথম। বন্ধুত্বের মানে আমার কাছে অন্যরকম আনন্দ।'

অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে জড়ো হলেন মুশফিকরা। তাদেরই ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম রাখলেন শুভেচ্ছা বক্তব্য। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, কোচ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন মিলন মেলার মধ্যমণি হয়ে। গ্রুপ ফটো তুলে বাদ্যের তালে তালে র‌্যালি নিয়ে পুরোনো আবাস ছাত্র হোস্টেলে গেলেন ওরা শতজন। অডিও ভিউজুয়্যাল সেন্টারে গিয়ে শেষ হলো র‌্যালি।

ফাঁকে ফাঁকে ছবি তোলার ধুম পড়েছিল। ছয় বছর ক্যাডেট জীবনে যে শৃঙ্খলা শিক্ষা পেয়েছিলেন, তার চূড়ান্ত দেখালেন প্রত্যেক ছেলেমেয়ে। সকাল ১১টার দিকে বিকেএসপির বাংলার শিক্ষক শামিমুজ্জামানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান চলল জুমার নামাজের বিরতির আগ পর্যন্ত। মুশফিকুর রহিম, সোহরাওয়ার্দী শুভ, শামসুর রহমান শুভদের উদ্যোগে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত হলেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, কোচ, কর্মকর্তা ও স্টাফরা। একেকজনকে ক্রেস্ট ও সুভ্যেনিয়র তুলে দেন ২০০০ ব্যাচের সাত তারকা- জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত শুটার শারমিন আক্তার, এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী সাঁতারু শাহজাহান আলী রনি, কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য জয়ী শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি, হকির অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন, তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সৌহরাওয়ার্দী শুভ ও শামসুর রহমান।

এই মিলন মেলায় হারিয়ে যাওয়া শিক্ষকদের খুঁজে এনে একমঞ্চে তোলার দারুণ কৃতিত্ব দেখালেন তারা। চাকরি জীবন শেষ করে যারা অবসর নিয়েছেন, তারা তো একপ্রকার হারিয়েই গেছেন। যাদের প্রেরণা, নিংড়ে দেওয়া ভালোবাসা এবং ক্লান্তিহীন শিক্ষাদানে আজ কীর্তিমান হয়ে উঠেছেন, তাদের ভোলেননি মুশফিকরা।

দিনভর নানা অনুষ্ঠান, বিকেলে ফুটবল খেলা, সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশনায় নেচেগেয়ে একদিনের জন্য দামাল ছেলে হয়ে উঠেছিলেন তারা সবাই। মুক্ত হাওয়ায় ফুসফুস ভরে নিয়ে আর আনন্দে মনপ্রাণ জুড়িয়ে আবার ফিরেও গেলেন আপন ঠিকানায়।

উত্তরণবার্তা/সাব্বির



পুরনো খবর