নাটকীয়ভাবে ফ্রান্সে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা     ব্রাজিলে করোনায় দৈনিক আক্রান্তের রেকর্ড     বাড়ি বাড়ি প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে প্রাথমিকের পরীক্ষার পরিকল্পনা     ‘বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে’     করোনার সংক্রমণ বাড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আবারও কড়াকড়ি     ডাকঘর সঞ্চয়ে ২০ লাখ টাকার বেশি রাখা যাবে না     শর্তসাপেক্ষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন অফিস ও গণপরিবহন চালু     এ পর্যন্ত ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার    

গ্রামবাসীর খাবার হলো ঝড়ে পড়া শামুকখোল পাখিগুলো

  মে ২১, ২০২০     ৫৫০     ২১:২৩     আরও
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : নাটোরের বড়াইগ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে আছড়ে পড়া শতাধিক শামুকখোল পাখি গ্রামবাসীর খাবারে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাতাসের তোড়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে প্রায় শ’খানেক পাখি মাটিতে পড়ে যায়। ভোরের দিকে গ্রামবাসী ধরে নিয়ে সেগুলো জবাই করে। পরে রান্না করে খায়। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা।

বাজিতপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক মহসিন আলী বলেন, ‘তিন-চার মাস ধরে গ্রামের বটতলা মোড়ের পাশের তিনটি শিমুল গাছে আস্তানা গাড়ে শতাধিক শামুকখোল পাখি। দিনের বেলায় পাখিগুলো আশপাশের বিলে খাবার খেয়ে রাতে এসব গাছে এসে আশ্রয় নিত। এর মাঝে অনেকেই পাখিগুলো শিকার করার চেষ্টা করেছেন। তবে গ্রামের তরুণদের বাধার কারণে তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু ঝড়ের সুযোগে কিছু লোভী মানুষের কারণে শেষ রক্ষা হলো না।’

তিনি জানান, বুধবার (২০ মে) রাত থেকে ঝড়ের তাণ্ডবে পাখিগুলো মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় সুযোগসন্ধানী লোকজন পাখিগুলো ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা ছুটে যান বাড়ি বাড়ি। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়। অনেকেই রান্নার জন্য এসব পাখির মাংস চুলাতে চড়িয়েছেন ততক্ষণে। পরে পাখিগুলোর আশ্রয় নেয়া গাছগুলোর কাছে গিয়ে আর কোনো পাখি দেখা যায়নি।

স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি নিজেসহ গ্রামের অনেকেই এসব অতিথি পাখির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাখিপ্রেমী লোকজন এগুলো দেখার জন্য আসতো। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সব শেষ করে দিলো।

বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘পাখিগুলোর প্রতিটি ২-৩ কেজি করে ওজন ছিল। পাখিগুলোর প্রতি গ্রামের কিছু লোকের আগে থেকেই লোভ ছিল। ঝড়ের সময় মানুষ যখন নিজেদের জানমাল নিয়ে ব্যস্ত, তখন ওইসব লোকজন পাখিগুলো ধরে নিয়ে কেটেকুটে রান্না করে ফেলে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন সাবু বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ধরে নেয়া পাখির সংখ্যা ৫০-৫৫ টির মত হবে। গ্রামের লোকজনের সচেতনতার কারণে এতোদিন পাখিগুলো ধরতে পারেনি, কিন্তু এবার আর পাখিগুলো বাঁচানো গেল না।’

বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘বাজিতপুরে গ্রামে অতিথি পাখি শামুকখোল থাকার বিষয়টি জানা ছিল না। এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উত্তরণবার্তা/এআর



পুরনো খবর