করোনা ও বন্যায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজের গতি বাড়াতে হবে     পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা     করোনা মোকাবেলায় এডিবি’র প্রতিশ্রুতি ৯.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে     জাতীয় শোক দিবস পালনের লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত     শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল     করোনায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯১৮     কৃষকের ক্ষতি পোষাতে বন্যাপ্লাবিত এলাকা পর্যবেক্ষণের নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর     চীনা ভ্যাকসিন: ফল সন্তোষজনক হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগ    

মেহেরপুরে কচুর বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা

  জুলাই ০৪, ২০২০     ৫১     ১১:৫৭     আরও
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : মেহেরপুরের বাজারে এখন নতুন কচু। তবে আউস জাতের কচু বেশি পাওয়া গেলেও আমন কচু পুরোপুরি বাজারে আসতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। গত কয়েক বছরের মতো এবারও কচুর বাম্পার ফলন হয়েছে এবং ভালো  দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।

বাজারে আউস কচু ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমন কচুর দাম আরও বেশি। চাষিরা আশা করছেন, এ বছরও তারা লাভবান হবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাবমতে, জেলায় প্রায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে কচুর চাষ হয়েছে। সারাদেশে মেহেরপুরের কচুর চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিন সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া, আমদহ, পিরোজপুর, বুড়িপোতা ইউনিয়ন; গাংনী উপজেলার সাহারবাটি, কাথুলী, ধানখোলা ইউনিয়ন; মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী, বাগোয়ান, মহাজনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে বহু কচুরক্ষেত দেখা গেছে।

বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে আউস কচু বাজারে আসতে শুরু করে। আর কিছু দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমন কচু বাজারে আসবে। আগাম লাগানো কিছু কচু ইতোমধ্যে বাজারে উঠেছে। সুস্বাদু হওয়ায় আমন কচুর চাহিদা বেশি। ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রিও হচ্ছে।

চাষিরা জানান, মাঘ-ফাল্গুন মাসে কচুর চাষ শুরু হয়। চার মাস পর থেকে অর্থাৎ বৈশাখ মাসের শেষের দিক থেকে আউস কচু উঠাতে পারেন চাষিরা। এর কিছু দিন পর ওঠে আমন কচু।

সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের বাবু মিয়া ৩ বিঘা ও একই গ্রামের পঁচা মোল্লা ৪ বিঘা জমিতে কচু চাষ করেছেন। তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর প্রতিবিঘা কচু চাষে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর প্রতিবিঘায় ৫০ থেকে ৬০ মণ কচু হয়েছে।

বর্তমান বাজারে প্রতি মণ আউস কচু ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমন কচুরও ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন তারা। মণ দরে বিক্রির পাশাপাশি অনেক চাষি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিঘা দরে ক্ষেত বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী রুয়েল হোসেন। তিনি বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে কচুরক্ষেত কিনে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, এ বছর তিনি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিঘা দামে ক্ষেত কিনছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর কচুর ফলন কিছুটা কম বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন পারভীন বলেন, সবজি উৎপাদনখ্যাত জেলা মেহেরপুর। আর লাভজনক সবজির মধ্যে কচু অন্যতম। এতে শুধু কচু চাষি নয়, উৎপাদন এবং সরবরাহ পর্যায়ে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা স্বপন কুমার খান বলেন, এ বছর জেলায় ১০০ কোটি টাকার কচু উৎপাদন হতে পারে।  
 
উত্তরণবার্তা/এআর

 



পুরনো খবর