বৈরুত বিস্ফোরণে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক     চাল আমদানির অনুমতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী     শেখ কামালের জন্মদিনে শেরপুরে ১০ অসচ্ছল ক্রীড়াবিদকে ডিসির অনুদান     ওসি প্রদীপ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকতসহ তিনজন রিমান্ডে     সমুদ্রবন্দরসমূহে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত     স্যোশাল মিডিয়ার সার্ভিস প্রোভাইডাররা অপব্যবহারের দায় এড়াতে পারে না : তথ্যমন্ত্রী     ডিএসসিসি এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান     স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদকে দুদকে তলব    

ডিএসসিসি মেয়রের ৬০ দিন : তাপসের হাতে রূপান্তরের মশাল

  জুলাই ১৬, ২০২০     ২৭৪     ১৫:৩৯     আরও
--

উত্তরণবার্তা প্রতিবেদক : ‘জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ, বিজয়ের পতাকা তোলো/জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ, আপন শক্তিতে এগিয়ে চলো’। বিশ্বের বিস্ময় আর বাঙালির অহঙ্কার বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে গর্জে উঠেছে বারবার। বহু চড়াই-উতরাই পার করে দেশ আজ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।

এরই ধারাবাহিকতা রক্ষায় উন্নয়নের মহাপকিল্পনা করে তা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সংস্থার কোনো সমস্যাকে ভয় না পেয়ে বা এড়িয়ে না গিয়ে নবনির্বাচিত এই মেয়র সমস্যার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। করছেন বিশেষজ্ঞ পরামর্শকে সম্মান। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই নিচ্ছেন একের পর এক সাহসী সিদ্ধান্ত। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের করছেন চাকরিচ্যুত।

এরই মধ্যে ডিএসসিসি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস বা ৬০ দিন পূর্ণ হলো আজ। বিগত দুই মাস বা ৬০ দিনেই নগর ভবন হয়ে উঠেছে মানুষের আস্থার ঠিকানা। এমন এক সময়ে নতুন মেয়র দায়িত্ব নেন, বৈশ্বিক মহামারী যখন জাল বিছিয়েছে বাংলাদেশেও। নগরবাসীর ধারণা ছিল করোনা মোকাবিলায়ই কেটে যাবে মেয়রের সময়। থেমে যাবে ডিএসসিসির বাকি সব কাজ। কিন্তু মেয়র তাপস যেন ভিন্ন ধাতে গড়া।

করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি বাকি কাজগুলোও তিনি করে যাচ্ছেন সমান তালে। এসব কাজের পুরোভাগে আছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন এবং নগদ অর্থ ও খাদ্য বিতরণসহ আরো কিছু দৃশ্যমান কর্মসূচি। দেশের এমন সঙ্গিন পরিস্থিতিতে ভড়কে না গিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে গত ১৬ মে দুপুরে ডিএসসিসি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

রূপরেখা পাঁচটি হলো- ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা। আর এসব রূপরেখা বাস্তবায়নে করছেন মহাপরিকল্পনা। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় শামিল হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নগরবাসীর জন্য আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মেয়র তাপস। সিটি করপোরেশন সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, মেয়র হিসাবে গত ১৬ মে দায়িত্ব নেয়ার পর গত দুই মাসে প্রায় প্রতিদিনই সকাল ৯ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস করেছেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। দায়িত্ব নেয়ার শুরুতেই করপোরেশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন তিনি। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয় প্রভাবশালী, উচ্চপদস্থ শীর্ষ দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত অফিস ও কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ সভা করছেন মেয়র। বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও টেন্ডারবাজদের হাতে জিম্মি থাকা সিটি কর্পোরেশনে চালু করেছেন ‘সর্বোচ্চ দরদাতা বা সর্বোচ্চ ইজারাদাতা কাজ পাবেন’ নীতি। যার ফলে, বন্ধ হয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড নেগোসিয়েশন’। তাতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা। সচল হয়েছে সিটি করপোরেশনের রাজস্বের চাকা।

শুধু অফিসেই নয়, বাইরেও সমান বিচরণ নবনির্বাচিত মেয়র তাপসের। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরেজমিন পরিদর্শন করে চলছেন। ২২ নং ওয়ার্ডে বছরব্যাপী নর্দমার ময়লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে রাস্তায় ময়লা ফেলে রাখলে ‘ঢাকা ওয়াসা’কে জরিমানার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। তার এই সাহসী বক্তব্যের পর নগরবাসীর উপকার হয়েছে অনেকখানি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা।

ইতোমধ্যে দিনের বদলে রাতে ময়লা পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতেও স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। ময়লা ব্যবস্থাপনা সেবা নিশ্চিত করতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একটি করে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (এসটিএস) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এসটিএসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন মেয়র।

উদ্বোধন করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার যা নগরে খাদ্যে ভেজাল মেশানো রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি মেয়র কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ওসমানী উদ্যান, বাংলাদেশ মাঠ, পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। গুলিস্তান থেকে জয়কালী মন্দির পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া ‘স্টপ ওভার টার্মিনাল’ ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত ফিলিং স্টেশনও ঘুরে গেছেন।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণের লক্ষ্যে ডেমরা ও কামরাঙ্গীরচর এলাকা পরিদর্শন করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীকে মশকমুক্ত করার লক্ষ্যে রমনা পার্কে হাঁস এবং খিলগাঁও বটতলা ঝিলে মাছ অবমুক্ত করেন।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত বছর প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। মশক নিধনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার নির্বাচনী ওয়াদা থাকায় নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মশা নিধনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু করেন মেয়র। আর এসব কার্যক্রম মনিটর করবেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ‘অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ ও কীটনাশক প্রয়োগ সেবা কার্যক্রমের’। এই কার্যক্রমের আওতায় দক্ষিণ সিটির যেকোনো নাগরিক অনলাইনে বা করপোরেশনে কল করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার আবেদন করতে পারবেন।

ইতোমধ্যেই ভেজালমুক্ত মশার ওষুধ নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি মেয়র সাভার এবং মাওয়ায় অবস্থিত দুটি কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, ‘আমি একটি মিশন নিয়ে ডিএসসিসিতে এসেছি এবং তা বাস্তবায়নও করব। আমার কথা একটাই-দুর্নীতি করব না এবং কাউকে করতেও দেব না।’

উত্তরণবার্তা/সাব্বির



পুরনো খবর